বিনার গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র উদ্বোধন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়বে ১২ মাস পর্যন্ত

· Prothom Alo

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে গামা রশ্মি বিকিরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার (জিআইসি) চালু করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক গবেষণাকেন্দ্র। গাজীপুরের ভবানীপুরে শনিবার কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

Visit grenadier.co.za for more information.

বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত কেন্দ্রটি তিন একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে। এটির সক্ষমতা ৫০০ কেসিআই, যা কোবাল্ট-৬০-এর তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে তৈরি। সংশ্লিষ্ট গবেষক ও ব্যক্তিরা বলছেন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ানো, ক্ষতিকর অণুজীব ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তাঁর মতে, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে মৌসুমে দেশে উৎপাদিত গাজর ও ক্যাপসিকামের মতো সবজি যদি বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে তা অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও জানান, বৈশ্বিক বাজারে আম, কাঁঠাল ও আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশি এসব ফল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিযোগ্য করে তোলা গেলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিনার মহাপরিচালক শরিফুল হক ভুঁইয়া। তিনি জানান, ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্র প্রতিবছর ৫৬ হাজার ৫০০ টন পণ্যের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমাবে। এর মাধ্যমে সাশ্রয় হবে কমপক্ষে ৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে আম ও কলার ‘শেলফ লাইফ’ বা সংরক্ষণকাল ১০ থেকে ২১ দিন, পেঁয়াজ ও আলুর ছয় মাস এবং রসুনের ক্ষেত্রে ১২ মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

কৃষিপণ্যের পাশাপাশি মেডিক্যাল সরঞ্জাম শতভাগ জীবাণুমুক্ত করার জন্যও এই গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র সবচেয়ে ভালো উপায় বলে উল্লেখ করেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম রফিকুল ইসলাম। তাই কেন্দ্রটিকে বহুমুখীভাবে ব্যবহারের কথা বলেন তিনি। আর কৃষি সচিব মো. সেলিম খান বলেন, এই গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্রের গবেষণা ও সেবার সঙ্গে কৃষক, কৃষক সংগঠন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্প উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মতো অংশীজনদের অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান এম মইনুল ইসলাম, চীনের সিএনএফ কোম্পানির ডিজিএম ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক ঝাং শুনদে প্রমুখ। সমাপনী বক্তব্য দেন বিনার পরিচালক (প্রশাসন ও সেবা বিভাগ) এম লুৎফর রহমান মোল্লা।

Read full story at source