লক্করঝক্কর বাসে শুধু ‘স্টিকার’ বদল, বাকি সব আগের মতো

· Prothom Alo

‘কোম্পানি এখনো কিছুই দেয়নি। কোনো টিকিট হয়নি, তারা দিলে আমরা টিকিট দিয়ে যাত্রী নিব। আমরা চাই, নতুন ব্যবস্থা ভালোভাবে কার্যকর করা হোক।’

Visit newsbetting.club for more information.

কথাগুলো বলছিলেন পিপিবি নামের সদ্য গঠিত নতুন বাস কোম্পানির এক বাসচালকের সহকারী বিল্লাল হোসেন। এই বাসের আগের নাম ছিল পরিস্থান পরিবহন। রোববার থেকে বাসটির ওপর নতুন স্টিকার টানানো হয়েছে।

রাজধানীর আবদুল্লাহপুর বা ধউর থেকে ঘাটারচর রুটে চলাচলের জন্য ঢাকা শহরের পূর্বাংশে চলাচলের জন্য গঠিত হয়েছে প্রজাপতি, পরিস্থান ও বিকাশ পরিবহনের সমন্বয়ে গঠিত নতুন এই বাস কোম্পানি-পিপিবি পরিবহন। বাস রুট রেশনালাইজেশন (কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা) উদ্যোগের আওতায় গঠিত ছয়টি রুটের একটিতে চলাচল করা এই বাসগুলোর নতুন নিয়ম মানার কথা। তবে বাসের স্টিকার বা নাম পরিবর্তন ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়নি।

লক্কড়ঝক্কড় বাসে নতুন স্টিকার

সরেজমিনে আজ সোমবার দুপুর থেকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে মিরপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পিপিবি পরিবহনের কয়েকটি বাসের গায়ে নতুন স্টিকার সাঁটানো হয়েছে। তবে এর নিচে আগের নাম প্রজাপতি কিংবা পরিস্থান লেখাও পড়া যাচ্ছে। বাসগুলোর অবস্থা আগের মতোই লক্কড়ঝক্কড়।

নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কাউন্টার বা টিকিট বিক্রয়কেন্দ্র থেকে যাত্রী ওঠানো ও নামানোর কথা। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। যত্রতত্রই যাত্রী ওঠানামা করছিল বাসগুলো।

বেলা আড়াইটার দিকে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় কয়েকটি বাসকে। এর মধ্যে পিপিবির একটি বাসের চালকের সহকারী ‘মিরপুর’, ‘মিরপুর’ বলে যাত্রীদের ডাকছিলেন। এলাকাটিতে বাসের টিকিট কাটার কোনো বুথ বা কাউন্টার দেখা যায়নি। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা থাকায় বাসগুলো অবশ্য বেশি সময় দাঁড়াতে পারেনি।

বিমানবন্দরের পর কাওলা, লা মেরিডিয়ান, খিলক্ষেত, কুড়িল, শেওড়া, কুর্মিটোলা, র‍্যাডিসন ব্লু পর্যন্ত পুরো সড়কেই যাত্রী ওঠানো–নামানো করেছে বাসটি। খিলক্ষেতে আসার পর বাসের সব আসন পূর্ণ হয়। কুড়িল সিগন্যালে বাসটিতে যাঁরা ওঠেন, তাঁরা দাঁড়িয়ে থাকেন। র‍্যাডিসন ব্লু-সংলগ্ন এলাকা থেকে বাসটি কালশী যাওয়ার ফ্লাইওভারে ওঠে।

ফ্লাইওভারে ওঠার পর ভাড়া নিতে আসেন বাসটির চালকের সহকারী। তাঁকে নতুন ব্যবস্থায় টিকিটের কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘কোম্পানি না দিলে আমরা কী করব। আমাদের তো কিছু করার নেই। টিকিট চালু হলে আমরাও টিকিটে যাত্রী নিব।’

মিরপুরগামী বাসটি কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার পর পল্লবী পর্যন্ত আসার পথে যেখানেই যাত্রী পেয়েছে, সেখানেই থেমেছে, যাত্রী ওঠানো–নামানো করেছে। এই সড়কের কোথাও কোনো টিকিট কাউন্টার বা টিকিট সংগ্রহের বুথ দেখা যায়নি। অথচ রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাসগুলোর নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানামা করানোর কথা।

গতকাল বিকেলে পল্লবীতে পিপিবি পরিবহনের পরপর চারটি বাসকে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এর মধ্যে দুটিতে নতুন স্টিকার দেখা গেছে। বাকি দুটির একটিতে ছিল ‘প্রজাপতি’ ও অন্যটিতে ‘পরিস্থান’ লেখা।

একই অবস্থা দেখা গেছে, গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে চলাচল করা ভিআইপি পরিবহনের ক্ষেত্রেও। এই কোম্পানির বাসগুলোও চলছে আগের মতোই। বিমানবন্দর হয়ে ফার্মগেট এলাকা পর্যন্ত কোনো টিকিট কাউন্টার চোখে পড়েনি। যাত্রীদের ওঠানামা করানো হয় মূল সড়কেই। ফার্মগেট এলাকায় যাত্রীদের নামানো হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পরপরই, মূল সড়কে।

শিববাড়ী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস পরিচালনা করার কথা ভিআইপি পরিবহন নামের এই বাস কোম্পানির। কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে বাস চালাচ্ছে। পুরোনো রুটে নতুন ব্যবস্থায় তাদের চলার কথা।

‘সবকিছুতে তাড়াহুড়ো হয়েছে’

ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্বের এই নতুন রুটে ১৯০টি বাস পরিচালনা করবে পিপিবি সিটি সার্ভিস। এতে প্রজাপতি ও পরিস্থান পরিবহনের কিছু বাস স্টিকার পরিবর্তন হলেও গতকাল পর্যন্ত বিকাশ পরিবহনের কোনো বাস যুক্ত হয়নি।

এই রুটের একজন লাইনম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবকিছুতে তাড়াহুড়ো হয়েছে। এখনই কিছু হবে না। নতুন ব্যবস্থা ভালো। কিন্তু আমরা তো এখনো কিছুই পাইনি।’

রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রোববার থেকে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে এসব রুটে ৭৮০টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি রুটে চলবে শুধু নন-এসি বাস। দুটি রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) ও নন-এসি বাস চালানো হবে।

উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। সংস্থাটির সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে পুরোনো বাস দিয়েই এই সেবার যাত্রা শুরু হবে। বাসগুলো রং করে নামানো হচ্ছে। পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছয়টি কোম্পানিকে।

Read full story at source