গুরুত্বপূর্ণ পদে দুই প্রশাসক, মেয়র পদে সংকেত দেখছেন অনেকে
· Prothom Alo

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে এবার মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বেও আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে। আর দক্ষিণের আহ্বায়ক করা হয়েছে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালামকে। দলের অনেকে এই সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়াকে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁদের মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ার আগাম ‘সংকেত’ হিসেবে দেখছেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, সাংগঠনিক পদ পাওয়া মানেই নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া নয়।
Visit chinesewhispers.club for more information.
বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসকের দায়িত্বের পাশাপাশি মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব পাওয়ায় দুজনের সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্ত হলো। নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। সিটি নির্বাচন সামনে রেখে এই দায়িত্ব দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে দলীয় সূত্রগুলো।
চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ শফিকুল ইসলাম খানকে ঢাকা উত্তর এবং আবদুস সালামকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আট মাসের বেশি সময় ধরে প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা বিএনপির এই দুই নেতা এখন রাজধানীতে দলের দুই সাংগঠনিক শাখারও শীর্ষ পদে এলেন।
গত ১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দুই সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে শফিকুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। তাঁদের দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আসন্ন সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম খান আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন তো আমি করব, দল তো আমাকে কোনো না কোনোভাবে সংকেত দিয়েছে। সেই কারণে আমার কর্মকাণ্ড সেভাবেই করার চেষ্টা করছি। সর্বোপরি দল যে সিদ্ধান্ত দেয়, সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই কাজ করব।’
শফিকুল ইসলাম খান যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব পান।
ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি ঘোষণার এক সপ্তাহ পর আজ রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। চার সদস্যের এই কমিটিতে আবদুস সালামকে আহ্বায়ক, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, আ ন ম সাইফুল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এর আগে এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন রফিকুল আলম (মজনু)। সাইফুল ইসলাম ও তানভীর আহমেদ আগের কমিটিতেও একই দায়িত্বে ছিলেন। রফিকুল আলম ফেনী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পুনর্গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে রফিকুল আলমকে রাখা হয়নি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম এর আগেও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সালাম ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। ওই নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন।
আবদুস সালাম বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক। তিনি আসন্ন সিটি নির্বাচনে দক্ষিণ সিটি থেকেই মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে দলে আলোচনা আছে। এরই মধ্যে তাঁর নতুন দলীয় দায়িত্ব পাওয়াকেও মেয়র পদে প্রার্থিতার একটা সংকেত হিসেবে দেখছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা।
এ বিষয়ে আবদুস সালাম আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহানগরের দায়িত্ব পাওয়ায় মানুষের কাছে আমাদের জবাবদিহি আরও বেড়েছে। মেয়র পদে নির্বাচন করব কি না, সে সিদ্ধান্ত দল নেবে। এখন দায়িত্ব পালন করে মানুষের আস্থা অর্জনই আমার লক্ষ্য।’
এ দিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও ঢাকার দুই সিটির মেয়র পদে প্রার্থী ঠিক করেছে। উত্তরে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে সামনে রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ৪ অক্টোবর রাজধানীর মধুবাগে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান (দুদু) প্রথম আলোকে বলেন, কমিটি গঠন ও নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঠিক করা আলাদা বিষয়। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। আর নির্বাচনে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না, সেসব দেখা হয়। তিনি বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটির প্রশাসককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মেয়র প্রার্থী করার আগাম সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’