বিল নিয়ে তর্ক করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন, তিন দিন পর বিদ্যুৎ পেলেন সেই গ্রাহক

· Prothom Alo

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ ওঠার তিন দিন পর বিদ্যুৎ পেয়েছেন গ্রাহক স্বপন মিয়া। আজ রোববার দুপুরে তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎ–সংযোগ পুনঃস্থাপন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

Visit newsbetting.bond for more information.

বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় গতকাল শনিবার প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে এবং আজ রোববার ছাপা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে স্বপন মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে যাঁরা আগে তাঁদের বাড়ির বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন, তাঁদের দুজনসহ মোট তিনজন বাড়িতে আসেন। পরে মিটারে তার সংযুক্ত করে বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু করে দেন।

আসমা আক্তার বলেন, সংযোগ দেওয়ার আগে ওই ব্যক্তিরা তাঁর কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি।

শুধু বিল বেশি আসার কারণ জানতে চাওয়ায় তাঁকে এভাবে হয়রানি করা হলো কেন, পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন বলে জানান আসমা আক্তার। তখন ওই দুই ব্যক্তি তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

আসমা আক্তার বলেন, ‘তাঁরা আমাকে বলেছেন, যেন আর কাউকে গালিগালাজ না করি। আমি তাঁদের বলেছি, কাউকে কোনো গালিগালাজ করিনি। শুধু জানতে চেয়েছি, আমার বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে কেন। যেহেতু তাঁরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর আবার সংযোগ দিয়ে গেছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তাই এখন তাঁদের বিরুদ্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ নেই।’

এ বিষয়ে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকা কলমাকান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহ আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম আলোয় সংবাদ প্রকাশের পর তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন। আজই সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন। সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে সংযোগ দেওয়ার জন্য ওই দুই কর্মীর সঙ্গে একজন কর্মকর্তাকেও পাঠানো হয়েছিল।

শাহ আলম আরও বলেন, গ্রাহকের বিদ্যুৎ–সংযোগ এভাবে বিচ্ছিন্ন করা হলো কেন, বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের স্বপন মিয়ার বাড়ির বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বিল একসঙ্গে ৩ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধের পর অক্টোবর মাসের বিল আসে ৮৭০ টাকা। এ বিল নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বপন মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তার। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, বিল দিতে গেলে কর্মীদের গালিগালাজ ও কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

বিল নিয়ে তর্ক করায় গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল পল্লী বিদ্যুৎ

Read full story at source