ফতুল্লায় ‘জেল খাটার অভিজ্ঞতা নিতে’ শিশুকে হত্যা, ৫ কিশোর গ্রেপ্তার: পুলিশ

· Prothom Alo

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘জেল খাটতে কেমন লাগে’—এমন কৌতূহল থেকেই কয়েকজন কিশোর পরিকল্পনা করে শিশুকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই চমকে দেওয়ার মতো। জেল খাটার কৌতূহল থেকে ছয় কিশোর মিলে ১১ বছর বয়সী শিশুকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

Visit bettingx.bond for more information.

গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত মো. হোসাইন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়া চর তক্কার মাঠ এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে। সে বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। এ ঘটনায় হোসাইনের বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, অভিযুক্তরা সবাই কিশোর। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দিত। সেখানে তারা মাদক সেবনের পাশাপাশি ছোরা-চাকুও মজুত রাখত। তাদের মধ্যে তিন কিশোর ঘটনার দিন রেলস্টেশন এলাকায় বসে আলোচনা করে—কীভাবে জেল খাটার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, খুন করলে জেলে যাওয়া সম্ভব। এই বিকৃত কৌতূহল থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। এর কিছুক্ষণ পর ১১ বছর বয়সী হোসাইন পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে তাকে টার্গেট করা হয়। কৌশলে গাঁজা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে আড্ডাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল আরও তিন কিশোর। তাদের পরিকল্পনার কথা জানালে তারাও এতে সম্মতি দেয়। পরে সবাই মিলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হোসাইনের ওপর হামলা চালায়। হোসাইন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন মিলে তাকে চেপে ধরে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

হোসাইনকে হত্যার পর কিশোরেরা আবার রেলস্টেশনে ফিরে গিয়ে মাদক সেবন করে। পরে আরেক কিশোরকে ঘটনাটি জানানো হয়। তাকে মৃতদেহের অবস্থান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর ঘটনাটি ধীরে ধীরে জানাজানি হয়। বরিশালের নতুল্লাবাদ এলাকা থেকে ওই পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কিশোরদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন কলকারখানায় কাজ করে। শুধু একজন ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে, এক বছর ধরে সে আর বিদ্যালয়ে যায় না।

Read full story at source