কুমিল্লায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নামে মামলা

· Prothom Alo

কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈমের (ফারিহা) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন তাঁর বাবা মো. হানিফ।

গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার শ্বশুরবাড়ির ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুন নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

Visit turconews.click for more information.

ওই ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান (হৃদয়) পলাতক। বুধবার রাতে জান্নাতুনের বাবা স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মো. হানিফের বাড়ি নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁর ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।

বুধবার রাতে কান্দাল গ্রাম পারিবারিক কবরস্থানে জান্নাতুন নাঈমকে দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জান্নাতুন নাঈমের মা কোহিনুর বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পারিবারিকভাবে ফারিহার (জান্নাতুন নাঈম) বিয়ে হয়। কিন্তু তাঁর জীবনে শান্তি আসেনি। স্বামী বেকার ছিল। পড়াশোনার খরচ চালাতে ফারিহা কুমিল্লা শহরে টিউশনি করত। সেই টিউশনির টাকা থেকেও ভাগ বসাতেন শাশুড়ি আফরোজা বেগম।

কোহিনুর বেগম অভিযোগ করেন, ‘ফ্ল্যাট সাজাতে, ফার্নিচারের জন্য ফারিহাকে যৌতুকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে বিভিন্ন সময় চাপ দিয়েছে হৃদয় (মেহেদী হাসান) ও তার মা আফরোজা বেগম। হৃদয় সারা দিন শুয়ে–বসে, মুভি দেখে দিন পার করত। তাকে কোনো চাকরি করার কথা বললেই শুরু হতো অত্যাচার।’

জান্নাতুন নাঈমের বাবা মো. হানিফও মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে এটিকে হত্যা বলে দাবি করছেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ বলেছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যা এলে তখন আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আমার কাছ থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরীফ ইবনে আলম জানান, আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি হত্যার আলামত পাওয়া যায়, তবে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে এবং সে অনুযায়ী চার্জশিট দেওয়া হবে। প্রধান আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

কুমিল্লায় স্বামীর ভাড়া বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে কান্দাল গ্রামে জান্নাতুন নাঈমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা ও পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম চৌধুরী ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক জামাল নাছের। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক প্রশাসন (অবৈতনিক) ইফতেখারুল ইসলাম চৌধুরী (সিয়াম), আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সিএসই বিভাগের কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম, ট্রিপল-ই বিভাগের সমন্বয়ক মেহেদী হাসান, সিএসই বিভাগের প্রভাষক নুসরাত জাহান ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এমদাদুল হক সোহাগ উপস্থিত ছিলেন।

Read full story at source