১০ দিন পর হাঁড়িভাঙা আম পাড়া শুরু, মিঠাপুকুরে ১২০ কোটি টাকা বেচাকেনার সম্ভাবনা

· Prothom Alo

রংপুরের জনপ্রিয় আম হাঁড়িভাঙা। এ আমের চাষ ও জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এ আম বদলে দিয়েছে আশপাশের মানুষের ভাগ্য। রংপুরের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে হাঁড়িভাঙা আম। এবার হাঁড়িভাঙার ফলন ভালো। মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি বিভাগ ১৫ জুন থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত করতে আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়েছে। ১৫ জুন থেকে এই আম পাড়া শুরু হবে। আমচাষিরা গাছ থেকে আম সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বুধবার সকালে তেকানী গ্রামে যাওয়ার পথে চোখে পড়ে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি হাঁড়িভাঙা আমের বাগান। গাছে থোকায় থোকায় আম। আম পরিপক্ব হতে কৃষি বিভাগের বেঁধে দেওয়া সময়ের জন্য অধিকাংশ চাষি অপেক্ষা করছেন। তবে কেউ কেউ আম পাড়া শুরু করেছেন। তাঁরা বলেছেন, অতিরিক্ত গরমে এ বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই আম পাকা শুরু হয়েছে।

Visit freshyourfeel.com for more information.

কৃষি বিভাগ ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁড়িভাঙা আম জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায়। পাকা আম মাঝারি মাত্রার সুগন্ধ ছড়ায়। বর্তমানে মিঠাপুকুর ছাড়াও রংপুরের বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ, পীরগাছাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় হাঁড়িভাঙা আম চাষের বিস্তার ঘটছে।

তেকানী গ্রামের কৃষক সহিদার রহমান বলেন, আগে তিনি দুই একর জমিতে ধান ও আলুর চাষ করতেন। আট বছর আগে সেই জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান করেছেন। জমির ফসল বিক্রি করে আগে বছরে তাঁর লাভ হতো ৯০-৯৫ হাজার টাকা। গত বছর তিনি বাগানের আম বিক্রি করে পেয়েছিলেন ৪ লাখ টাকা। এবার তিনি আরও বেশি লাভের আশা করছেন।

সাত একর জমিতে আমের বাগান করেছেন খোড়াগাছ গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। গত তিন বছরে আম বিক্রি করে গড়ে তিনি আয় করেন ১৪ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ধান চাষ আর আম চাষে লাভের পার্থক্য হচ্ছে আকাশ-পাতাল।

তেকানী গ্রামে ঢুকতেই আসমা খাতুনের বাড়ি। তাঁর¯স্বামী এনামুল হক অসুস্থ। কাজ করতে পারেন না। আগে অন্যের বাড়িতে ও আমবাগানে কাজ করতেন আসমা। বাড়ির সামনে ১২ শতক জমি ও আঙিনায় হাঁড়িভাঙার বেশ কিছু চারা লাগিয়ে তিন বছরের মাথায় সংসারে সচ্ছলতা আনতে পেরেছেন। এখন আম বিক্রি ও গাভি পালনের আয় দিয়ে আসমা সংসার চালাচ্ছেন। ৯ শতক জমি কিনেছেন। তাঁর স্কুলপড়ুয়া দুই সন্তান। বাড়ির সামনে লাগানো আমগাছ দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘বাহে, আম নোয়ায় এইগল্যা (এগুলো), যেন টাকার গাছ। একনা গাছোত পাতা যত, আম বেচাইলে টাকাও পামো তত। আমোত কোনো লস নাই, তেমন খরচও নাই। খালি ৫০০-৬০০ টাকার সার ও ওষুধ দিলে পাঁচ বছরের একটা গাছোত লাভ হইবে চার হাজার টাকা। এমতোন লাভ অন্য সষোত (ফসলে) নাই।’

গাছে ঝুলে আছে হাঁড়িভাঙা আম। বুধবার সকালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার তেকানী গ্রামে

খোড়াগাছ ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় আমের বাজার পদাগঞ্জ। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আম কিনতে এই বাজারে আসেন। বাজারের আম ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বলেন, দিন যাচ্ছে, বাজারে হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদাও বাড়ছে। আম ঘিরে ছোট-বড় অনেক ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মানুষের।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম বলেন, মিঠাপুকুরে প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় লোকজন ধানি জমিতে আমের বাগান করছেন। ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে ৪ হাজার ৭৫টি হাঁড়িভাঙা আমের বাগান আছে। গত বছর ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এ বছর ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার বেশি হাঁড়িভাঙা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সব মাটিতে এ আমের চাষ করা যায়। তবে এঁটেল ও দো-আঁশ মাটি এই আম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। এক একর জমিতে বছরে সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়। মাঝারি প্রতিটি গাছে সার ও কীটনাশক বাবদ বছরে খরচ হয় ৫০০-৬০০ টাকা। পাঁচ বছর বয়সী প্রতিটি গাছের আম বিক্রি করে গড়ে চার হাজার টাকা পাওয়া যায়।

Read full story at source