‘আমাকে তুলো না’—এই কথা বলে রান্নাঘরের করিডরে নিভে গেল যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রদীপ
· Prothom Alo

১৯৬৮ সালের ৫ জুন, সবে মধ্যরাত পেরিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের অ্যাম্বাসেডর হোটেলের বলরুমে তখনো উৎসবের আমেজ। আগের দিন ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে (প্রাইমারি) বিজয়ী রবার্ট এফ কেনেডি উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের সামনে ভাষণ শেষ করলেন। হাততালির শব্দে ভরে গেল পুরো হলঘর। ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি হাঁটা দিলেন পাশের করিডরের দিকে।
Visit sportfeeds.autos for more information.
কিন্তু রান্নাঘরের সেই ব্যস্ত করিডরে অপেক্ষা করছিল ইতিহাসের এক নির্মম মুহূর্ত।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ। তারপর হুড়োহুড়ি, চিৎকার, বিভ্রান্তি। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আশার প্রতীক রবার্ট ফ্রান্সিস কেনেডি। পরদিন ৬ জুন হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর একই পরিণতি হয়েছিল তাঁর বড় ভাই প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির। পাঁচ বছরের ব্যবধানে আততায়ীর বুলেটে দুই কীর্তিমান ভাইয়ের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা নয়। এ যেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রজন্মের স্বপ্ন চিরতরে মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল।
একটি পরিবার, একটি ট্র্র্যাজেডি
কেনেডি পরিবারের নাম যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি আলাদা পরিচয় বহন করে। ১৯২৫ সালের ২০ নভেম্বর ম্যাসাচুসেটসের ব্রুকলাইনে জন্ম নেন রবার্ট ফ্রান্সিস কেনেডি। ৯ ভাই–বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম। বাবা জোসেফ কেনেডি ছিলেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। মায়ের নাম রোজ কেনেডি।
সিরহান সিরহান, রবার্ট এফ কেনেডির হত্যাকারীরবার্ট কেনেডির সঙ্গে আমার একমাত্র শত্রুতার কারণ ছিল ইসরায়েলের প্রতি তাঁর অন্ধ সমর্থন।হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি নেন রবার্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তিনি মার্কিন নৌ-রিজার্ভে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে রবার্ট ছিলেন তীক্ষ্ণ ও উচ্চাভিলাষী আইনজীবী। পঞ্চাশের দশকে সিনেটর জোসেফ ম্যাকার্থির তদন্ত কমিটিতে কাজ করেছিলেন। তবে পরে ম্যাকার্থির কমিউনিস্টবিরোধী উন্মাদনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। সংগঠিত অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই তাঁকে জাতীয় পরিচিতি এনে দেয়।
কর্মজীবন শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির সঙ্গে রবার্ট এফ কেনেডির গভীর পরিচয় ঘটেছিল। ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে, ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র এক মাস আগে, হার্ভার্ডের শেষ বর্ষের ২২ বছর বয়সী তরুণ রবার্ট ফিলিস্তিনে যান। সেখানকার সংঘাত নিয়ে প্রতিবেদন করেন বোস্টন পোস্ট পত্রিকার জন্য। তেল আবিব, জেরুজালেম ও ইহুদিদের সমষ্টিগত কৃষি সম্প্রদায় বা একটি কিবুৎজ পরিদর্শন করেন তিনি। এলাকাটি তখন অত্যন্ত অস্থির। ইহুদি ও আরব দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে।
রবার্টের চারটি প্রতিবেদন ১৯৪৮ সালের ৩ থেকে ৬ জুন বোস্টন পোস্টে প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘ব্রিটিশ হেটেড বাই বোথ সাইডস’ বা ‘ব্রিটিশরা উভয় পক্ষের কাছেই ঘৃণিত’। তাঁর এই প্রতিবেদন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে অবস্থিত জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল প্লাজা। জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর স্মৃতিস্তম্ভটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিলরাজনীতিতে প্রবেশ
বোস্টনের আইরিশ-ক্যাথলিক পরিবার থেকে উঠে আসা প্রাণবন্ত, আদর্শবাদী জন এফ কেনেডি ১৯৬০ সালে যখন প্রেসিডেন্ট হলেন, তখন মনে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে এক নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে। ভাই জন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর রবার্ট অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রকে বদলে দেওয়াই ছিল দুই ভাইয়ের স্বপ্ন।
পাঁচ বছর ব্যবধানে আততায়ীর বুলেটে দুই কীর্তিমান ভাইয়ের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা নয়। এ যেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রজন্মের স্বপ্ন চিরতরে মাটির নিচে চাপা পড়ে যাওয়া।
কিন্তু ডালাসে ১৯৬৩ সালের নভেম্বরে জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ড সেই স্বপ্নে প্রথম বড় ফাটল ধরাল। এ ঘটনায় রবার্ট শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে গুছিয়ে নেন। ১৯৬৪ সালে তিনি নিউইয়র্ক থেকে সিনেটর নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে নামেন।
১৯৬৮: যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অশান্ত বছর
রবার্ট কেনেডির হত্যাকাণ্ড বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন উত্তাল সময়ের কথা মনে রাখতে হবে। ১৯৬৮ সাল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে উত্তাল বছর। ভিয়েতনাম যুদ্ধ তখন চরম পর্যায়ে। প্রতিদিন খবরের কাগজে মৃত সৈনিকদের তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে টালমাটাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
জর্জ বার্নার্ড শ, আইরিশ নাট্যকারকিছু মানুষ যেকোনো জিনিসকে যেমন আছে তেমন দেখেই প্রশ্ন করে, ‘কেন?’ আর আমি এমন সব জিনিসের স্বপ্ন দেখি, যা কখনো ছিলই না, আর প্রশ্ন করি, ‘কেন নয়?’এর দুই মাস আগে ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল টেনেসির মেম্ফিসে লরেইন মোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। এর মধ্য দিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনিদের স্বপ্নের সবচেয়ে বড় কণ্ঠস্বরটি চিরতরে থেমে যায়। দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। শহরে শহরে বিক্ষোভ আর আগুন।
এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে অনেক মার্কিন নাগরিকের শেষ ভরসা হয়ে উঠেছিলেন রবার্ট কেনেডি। তিনি একই সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক শ্রেণির কাছে জনপ্রিয় ছিলেন—এই সমন্বয় তখন বিরল ছিল। যুদ্ধের বিরোধিতা করছিলেন খোলামেলাভাবে। দরিদ্র মানুষের কথা বলছিলেন, যা সে সময়কার মূলধারার রাজনীতিতে ছিল ব্যতিক্রম।
সেই রাতের ঘটনাক্রম
৪ জুন, ১৯৬৮। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ফলাফল এলো রবার্টের পক্ষে। প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়ে আরেকধাপ এগিয়ে যান তিনি। রাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের অ্যাম্বাসেডর হোটেলে সমর্থকদের ভিড়। উৎসবের পরিবেশ।
মধ্যরাতের পর রবার্ট মঞ্চে এলেন। চিরায়ত ভঙ্গিতে সংক্ষিপ্ত বিজয়ী ভাষণ শেষ করলেন। তারপর মঞ্চ থেকে নেমে রান্নাঘরের পাশে করিডর দিয়ে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলনস্থলে যাচ্ছিলেন। তাঁর দেহরক্ষীরা তাঁকে এদিক দিয়ে যেতে নিষেধ করেছিলেন।
জনাকীর্ণ রান্নাঘরের করিডর দিয়ে যেতে যেতে রবার্ট এফ কেনেডি বাঁ দিকে ঘুরে হোটেলের পরিবেশনকর্মী হুয়ান রোমেরোর সঙ্গে করমর্দন করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সিরহান সিরহান পয়েন্ট ২২ ক্যালিবারের একটি রিভলবার থেকে গুলি ছোড়েন। কেনেডির শরীরে তিনটি গুলি লাগে এবং আরও পাঁচজন আহত হন। সিরহানকে ঘটনাস্থলেই পাকড়াও করা হলো।
কেনেডি যখন মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় পড়েছিলেন, তখন রোমেরো তাঁর মাথাটি কোলে তুলে নেন এবং তাঁর হাতে একটি জপমালা (রোজারি) গুঁজে দেন।
রোমেরোকে কেনেডি জিজ্ঞেস করেন, ‘সবাই কি ঠিক আছে?’ রোমেরো উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, সবাই ঠিক আছে।’ কেনেডি তখন রোমেরোর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন এবং বলেন, ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
কয়েক মিনিট পর চিকিৎসাকর্মীরা এসে রবার্টকে একটি স্ট্রেচারে তুলে নেন। তখন তিনি ফিসফিস করে বলেন, ‘আমাকে তুলো না’। এটাকেই সাধারণত তাঁর শেষ উচ্চারিত কথা হিসেবে ধরা হয়। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। ১৯৮৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুয়ান রোমেরো এসব কথা বলেছিলেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের অ্যাম্বাসেডর হোটেলের রান্নাঘরের করিডরের মেঝেতে নিজের রক্তের মধ্যে আধা-চেতন অবস্থায় পড়ে আছেন গুলিবিদ্ধ সিনেটর রবার্ট এফ কেনেডি। এ সময় হোটেলের পরিবেশনকর্মী হুয়ান রোমেরো তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেনপ্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যতদ্রুত সম্ভব রবার্টকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু মাথায় গুলির ক্ষত ছিল মারাত্মক। পরদিন ৬ জুন রাত ১টা ৪৪ মিনিটে চিকিৎসকেরা রবার্টকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র সাড়ে বেয়াল্লিশ।
খুনি ও তাঁর উদ্দেশ্য
সিরহান সিরহানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রবার্ট কেনেডির ইসরায়েলপন্থী অবস্থানে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত গ্রিক অর্থোডক্স পরিবারে জন্ম নেওয়া সিরহান রবার্টের ইসরায়েলে যুদ্ধবিমান পাঠানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে মেনে নিতে পারেননি। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব–ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম বার্ষিকীতে তিনি এই বন্দুক হামলা চালান।
নিক্সনের উত্থানের মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতি এক নতুন পথে হাঁটা শুরু করে। রক্ষণশীল ধারা আরও শক্তিশালী হয়।
গ্রেপ্তারের পর সিরহান দাবি করেছিলেন, আই ডিড ইট ফর মাই কান্ট্রি বা এটা আমি আমার দেশের জন্য করেছিলাম। বিচারে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, পরে তা যাবজ্জীবন করা হয়। তিনি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারাগারে রয়েছেন।
১২ বছর বয়সে বাবা–মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও সিরহান কখনো দেশটির নাগরিক হননি। ১৯৪৪ সালে জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া এ আরব খ্রিষ্টান ১৯৪৯ সালে, অর্থাৎ ইসরায়েলের জন্মের পরের বছর জর্ডানের নাগরিক হয়েছিলেন। এখনো তিনি জর্ডানের নাগরিক।
১৯৮৯ সালে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিরহান বলেছিলেন, ‘রবার্ট কেনেডির সঙ্গে আমার শত্রুতার একমাত্র কারণ ছিল, ইসরায়েলের প্রতি তাঁর অন্ধ সমর্থন এবং ইসরায়েলে ওই ৫০টি ফাইটার জেট পাঠানোর সুচিন্তিত প্রচেষ্টা, যা স্পষ্টতই ফিলিস্তিনিদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।’
তবে দশকের পর দশক ধরে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক গবেষক মনে করেন, ঘটনার পুরো সত্য আজও প্রকাশিত হয়নি। তদন্তে অসংগতির অভিযোগ আছে। রবার্টের ছেলে রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র, যিনি বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য ও মানবসেবামন্ত্রী, বহু বছর ধরে নতুন তদন্তের দাবি করে আসছেন।
যা হারিয়ে গেল সেই রাতে
রবার্ট কেনেডির মৃত্যু শুধু একজন মানুষের মৃত্যু ছিল না। এটি ছিল একটি সম্ভাবনার মৃত্যু।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রবার্ট বেঁচে থাকলে সেই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি জিততেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধ হয়তো আরও আগেই শেষ হতো। মার্কিন রাজনীতি হয়তো অন্য পথে যেত।
রবার্ট এফ কেনেডির আঁকা প্রতিকৃতিরবার্টের মৃত্যুর পর ডেমোক্রেটিক পার্টি দিশাহারা হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত রবার্টের প্রতিদ্বন্দ্বী হিউবার্ট হামফ্রে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পান। কিন্তু নির্বাচনে তিনি বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী রিচার্ড নিক্সনের কাছে হেরে যান। নিক্সনের উত্থানের মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতি নতুন এক পথে হাঁটা শুরু করে। রক্ষণশীল ধারা আরও শক্তিশালী হয়। কিন্তু ইতিহাসের সেই করিডরে ওই রাতে যা হারিয়ে গেছে, তা আর ফেরার নয়।
আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রে ভাই জন এফ কেনেডির কাছেই শুয়ে আছেন রবার্ট এফ কেনেডি। তাঁর সমাধিতে আইরিশ নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ’র একটি উদ্ধৃতি খোদাই করা আছে। তা হলো—কিছু মানুষ যেকোনো জিনিসকে যেমন আছে তেমন দেখেই প্রশ্ন করে, ‘কেন?’ আর আমি এমন সব জিনিসের স্বপ্ন দেখি, যা কখনো ছিলই না, আর প্রশ্ন করি, ‘কেন নয়?’
রবার্ট এফ কেনেডি ১৯৬৮ সালে নির্বাচনী প্রচারে উক্তিটি বারবার ব্যবহার করেছিলেন। এটি তাঁর প্রচারের মূল অনুপ্রেরণামূলক স্লোগানে পরিণত হয়েছিল।
সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য আটলান্টিক, এনবিসি নিউজ