আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ চায় না ভুক্তভোগী পরিবারও: শিশির মনির

· Prothom Alo

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সমালোচিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল যেন ক্ষতিগ্রস্ত এবং বন্ধ না হয়, ভুক্তভোগী পরিবারও এমনটাই চায় বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনটাই বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন হিসেবে লেখা ছিল ‘পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ’।

শিশির মনির বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার ও আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মনে করে, ওই ঘটনার জন্য হাসপাতাল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং বন্ধ না হয়—এ ব্যাপারে সবাই একমত। কিন্তু যে বা যার অবহেলার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, সে বা তার ক্ষেত্রে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপও তারা দাবি করে। তারা মনে করে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Visit turconews.click for more information.

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, ‘এখানে আমার ভূমিকা হচ্ছে, সালিসি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী বা সালিসকারী হিসেবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের পূর্ণ সন্তুষ্টি নিশ্চিতে করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। দেশের আইন অঙ্গনে এটি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। আইনজীবী একজনের পক্ষ বলে আরেকজনের বিপক্ষে বলে, এটা সাধারণ ধারণা।…কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যাঁরা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিষয়টির সমাধান করতে চান। আমার অবস্থানও ঠিক সেই ধরনের।’

গত ২৭ মে সকাল ছয়টা থেকে নয়টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে আদ্–দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয় এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে এসেছে।

এরপর এই হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৪ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। আগামীকাল রোববার বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে হবে। এর মধ্যে আজ সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির দাবি করেন, এই কারণ দর্শানোর নোটিশ আইনসম্মত নয়। তিনি বলেন, যে আইনের অধীন নোটিশ দেওয়া হয়েছে, ওই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটা মোকাবিলা করা হবে।

শিশির মনির বলেন, ‘যে কারণে একটা হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা যায়—এ ধরনের কোনো কারণ এখানে বিদ্যমান নেই। ফলে আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশ আইনসম্মত নয়।’

আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘শাস্তি দেবেন, আইন অনুসারে দেবেন। এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে শাস্তি আরোপ করতে গিয়ে লাখ লাখ লোকের ক্ষতি করাও ঠিক হবে না।…ওই ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছিল। ইতিমধ্যে ওই বিভাগগুলোতে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (দুজনকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে) নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনও এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল এ ঘটনায় সম্মানজনক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাসহ ভুক্তভোগীদের পাশে আজীবন দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান শিশির মনির।

সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সবুর, আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আফিকুর রহমান, হাসপাতালের মহাপরিচালক নাহিদ ইয়াসমিন ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Read full story at source