ওএমএসের চাল-আটা কালোবাজারে বিক্রির দায়ে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতাকে জরিমানা
· Prothom Alo
স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারের খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির কর্মসূচির (ওএমএস) চাল ও আটা কালোবাজারে বিক্রির দায়ে চুয়াডাঙ্গায় এক ওএমএস ডিলার বিএনপি নেতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা জব্দ করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ থানা–পুলিশের সহযোগিতায় আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ওএমএসের পণ্য পাচারকারীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯–এর ৪৫ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
Visit rouesnews.click for more information.
ওই ডিলারের নাম সোহেল আহম্মেদ মালিক ওরফে সুজন। তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়ার সামসুল হক মালিকের ছেলে এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকার ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও ২৪ টাকা কেজি দরে আটা বিক্রি করে থাকে। কিন্তু অভিযুক্ত ডিলার সোহেল আহম্মেদ বরাদ্দ পাওয়া পুরো চাল ও আটা উপকারভোগী স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে বিক্রি না করে কালোবাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রির জন্য পুরাতন স্টেডিয়াম–সংলগ্ন ডিলার পয়েন্ট থেকে ভ্যানে করে নিয়ে যান। এ তথ্য জানতে পেরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান।
সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসান মিয়া প্রথম আলোকে জানান, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় রবি থেকে বৃহস্পতিবার সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ টন করে চাল ও পাঁচ টন করে আটা বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। বরাদ্দ করা এসব চাল ও আটা পৌর এলাকার ৯টি ডিলার পয়েন্টে ৯ জন ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে প্রতিটি পয়েন্টে ৫৫৫ কেজি চাল ও ৫৫৫ কেজি আটা স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে মাথাপিছু ৫ কেজি হিসাবে বিক্রি করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, অভিযানে ওএমএসের চাল ও আটা জব্দ ও জরিমানার বিষয়টি জানা নেই। তা ছাড়া ওএমএসের বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা সোহেল আহমেদ মালিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি চলতি মৌসুমের ধান-চাল কেনা সরেজমিন দেখতে চুয়াডাঙ্গার বাইরে অবস্থান করছিলাম। একজন সাংবাদিক ভাইয়ের কাছ থেকে কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’