সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য দূরদর্শী সিদ্ধান্ত সরকারের

· Prothom Alo

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য সরকার যে প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা ঘোষণা করেছে, সেগুলো সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এই খাতে। সেমিকন্ডাক্টর খাতের একজন উদ্যোক্তা এবং এই খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) সভাপতি হিসেবে আমি তা–ই মনে করি।

বাজেটে দেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপটেক খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাজেটে এই খাতের জন্য বিশেষ করে আইসি ডিজাইন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন, আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং, প্যাকেজিং ও ফেব্রিকেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে শুল্ক, ট্যারিফ ও ভ্যাট কাঠামোর আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।

Visit umafrika.club for more information.

এ খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার, টেস্টিং রিসোর্স এবং অন্যান্য উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, ভ্যাট এবং অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতির মতো সুবিধা স্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। এই প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তার ফলে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আইসি ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রোটোটাইপিং ও টেস্টিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্যাকেজিং ও ফেব্রিকেশন-সম্পর্কিত সক্ষমতা উন্নয়ন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

এম এ জব্বার, সভাপতি, বিএসআইএবাজেটে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এই খাতে নতুন বিনিয়োগকে যেমন উৎসাহিত করবে, তেমনি বৈশ্বিক অংশীদারত্বের সুযোগও সৃষ্টি করবে। তৈরি হবে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট তরুণদের জন্য উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান।

বাজেটে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এই খাতে নতুন বিনিয়োগকে যেমন উৎসাহিত করবে, তেমনি বৈশ্বিক অংশীদারত্বের সুযোগও সৃষ্টি করবে। বিনিয়োগ বাড়লে তাতে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট তরুণদের জন্য উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এই খাতে। এ ছাড়া বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপটেক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ জ্ঞানভিত্তিক, রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর প্রযুক্তি অর্থনীতি গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সেমিকন্ডাক্টর খাতের একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, সরকারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে শুধু দক্ষ জনবল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে একটি মূল্য সৃষ্টিকারী গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপটেক খাতের কৌশলগত গুরুত্ব অনুধাবন করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এই খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএসআইএ সরকার, শিল্প খাত, একাডেমিয়া এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Read full story at source