বাবার পুরোনো শার্টের পকেটের সেই বিবর্ণ কাগজ

· Prothom Alo

বাবার শার্টের বাঁ দিকের পকেটটা ছিল আমার ছোটবেলার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। সেখানে কখনো থাকত একটা কলম, কখনো বাজারের তালিকা, কখনো বাসের টিকিট। আর প্রায়ই থাকত আমার জন্য একটা ছোট্ট লজেন্স।

বয়স বাড়তে বুঝলাম, সেই পকেট শুধু জিনিস রাখার জায়গা ছিল না, ওখানে লুকিয়ে থাকত সংসারের সব না-বলা চিন্তা। মাসের শেষে টাকার টান, আমার স্কুলের ফি, মায়ের ওষুধ, ছেঁড়া জুতার বদলে নতুন জুতা কেনার হিসাব—সবই সেই পকেটের ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকত। অথচ বাড়ি ফিরে বাবা হাসিমুখেই বলতেন, ‘সব ঠিক আছে।’

Visit playerbros.org for more information.

একদিন আলমারি গোছাতে গিয়ে বাবার পুরোনো সেই শার্ট পেলাম। পকেটে হাত দিতেই বেরিয়ে এল একটি বিবর্ণ কাগজ। তাতে লেখা, ‘ছেলের বই কিনতে হবে। নিজের চশমাটা পরে কেনা যাবে।’

চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। মনে পড়ল, আমি যখন নতুন বইয়ের গন্ধে মুগ্ধ হয়ে থাকতাম, বাবা তখন ঝাপসা চোখে খবরের কাগজ পড়তেন। তিনি নিজের পৃথিবীটাকে একটু একটু করে অস্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, যাতে আমার ভবিষ্যৎটা পরিষ্কার হয়।

আজ বাবা নেই। কিন্তু সেই পুরোনো শার্ট এখনো যত্ন করে রেখে দিয়েছি। মাঝেমধ্যে পকেটে হাত রাখি। সেখানে আর লজেন্স নেই, টাকা নেই, কোনো তালিকাও নেই। তবু অদ্ভুতভাবে মনে হয়, আমার কাঁপতে থাকা আঙুলের ওপর এখনো বাবার শক্ত হাতটি নেমে আসে।

পৃথিবীতে কিছু মানুষ কখনো সত্যিই চলে যান না। তাঁরা থেকে যান কোনো পুরোনো শার্টের পকেটে, সন্তানের সাহসে, আর সেই নিঃশব্দ ভালোবাসায়, যার কোনো দাম হয় না, কোনো ঋণ শোধ হয় না, শুধু প্রতিটি শ্বাসে কৃতজ্ঞতার মতো অশ্রুর রং লেগে থাকে। নিঃশব্দে তাকাই, দেখি—‘শুধু আসন পাতা হলো আমার সারাটি দিন ধরে, ঘরে হয়নি প্রদীপ জ্বালা, তারে ডাকব কেমন করে।’

Read full story at source