আবৃত্তি, সংগীত ও আড্ডায় স্মরণীয় নজরুল বর্ষপূর্তি
· Prothom Alo

বাংলাদেশ সরকার ২০২৬–২৭ সালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ জুন বিকেলে রাজশাহী বন্ধুসভার উদ্যোগে ম্যাজিক লণ্ঠন স্কুলে (চৌদ্দপাই, বুধপাড়া, রাজশাহী) আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য নজরুল বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান।
Visit rouesnews.click for more information.
নজরুলপ্রেমী বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আয়োজনটি হয়ে ওঠে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, চিন্তাধারা ও সৃষ্টিশীলতা নিয়ে জ্ঞানচর্চা, আবেগ এবং জানা-অজানা নানা বিষয়ের এক অনন্য মিলনমেলা।
উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বন্ধুসভার সহসভাপতি পরওয়ার হোসেন, সহসভাপতি তাহমিনা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান, অর্থ সম্পাদক নিশাত তাসনিম ও তাঁর মা, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ইফরান নাসরিন, ম্যাগাজিন সম্পাদক মৌ রানী সাহা, বন্ধু শফিকুল ইসলাম, নাহিদ হাসান, মালিহা ফারজানা ও তাঁর বাবা রাকিব হাসান, আরিফুল ইসলাম, মাহাফুজ রহমান, মুক্তাদির বাঁধন, অলক চন্দ্র বর্মণসহ আরও অনেকে।
সূচনা বক্তব্য দেন সহসভাপতি পরওয়ার হোসেন ও তাহমিনা আক্তার। সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহানও গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। আলোচনা পর্বে নাহিদ হাসান, রাকিব হাসান ও শফিকুল ইসলাম কবি নজরুলের জীবনী ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে নানা জানা-অজানা তথ্য বন্ধুদের সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি উপস্থিত সবাই তাঁদের প্রিয় নজরুল-রচনা, কবিতা ও গান নিয়ে অনুভূতি ভাগাভাগি করেন। এই প্রাণবন্ত আলাপচারিতা অনুষ্ঠানের শুরুতেই তৈরি করে উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশ।
এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। কার্যনির্বাহী সদস্য মালিহা ফারজানা পরিবেশন করেন ‘মধুর মধুর বাঁশরি বাজে’ ও ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে’ গান। নাহিদ হাসান পরিবেশন করেন ‘আমার যাবার সময় হলো’, এবং সহসভাপতি পরওয়ার হোসেন পরিবেশন করেন নজরুলগীতি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে রাজশাহী বন্ধুসভার আয়োজন।পরবর্তী সময়ে শুরু হয় কবিতা আবৃত্তি পর্ব। নজরুলপ্রেমী রাকিব হাসান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে তাঁর নিজের লেখা কবিতা ‘নজরুল’ আবৃত্তি করেন। এরপর পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ইফরান নাসরিন আবৃত্তি করেন কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় কবিতা ‘লিচু চোর’। সর্বশেষ নাহিদ হাসানের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপ্তি ঘটে।
সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে শুরু হয় চা-আড্ডা। এ পর্বে অর্থ সম্পাদক নিশাত তাসনিম নিয়ে আসেন তাঁর নিজ হাতে তৈরি চিকেন রোল ও শিঙাড়া। ইফরান নাসরিন নিয়ে আসেন মালাই কেক ও পুডিং। তাহমিনা আক্তার নিয়ে আসেন তাঁর মায়ের তৈরি বিশেষ চা। ম্যাগাজিন সম্পাদক মৌ রানী সাহা পরিবেশন করেন তাঁর তৈরি লুচি, সবজি ও ডাল। বন্ধুদের নিজ হাতে তৈরি এসব খাবার চা-আড্ডাকে করে তোলে আরও অর্থবহ, ঘরোয়া ও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত সবার কাছ থেকে আয়োজন সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়। সবার ইতিবাচক অনুভূতি ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, রাজশাহী বন্ধুসভা