লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ–হামলা, কর্মকর্তাদের ‘হুমকি’

· Prothom Alo

তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়মের অভিযোগে টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি ও ঢাকার দোহারে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা। লোডশেডিংয়ে বিশ্বকাপ খেলা দেখতে না পেরে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

Visit tr-sport.click for more information.

এদিকে শেরপুরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলাকালে লোডশেডিং হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য নিরাপত্তা চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ঢুকে সংযোগ বন্ধ করে দেন একদল মানুষ।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সারা দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি আছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

নেত্রকোনায় কার্যালয় হামলা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সকাল সোয়া আটটার দিকে উপজেলা সদরের সাউথপাড়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৯৪ হাজার। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কেন্দুয়ায় মোট ১২টি ফিডার সচল রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দুয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় ৮টি এবং রামপুর কার্যালয়ের আওতায় ৪টি ফিডার রয়েছে।

নেত্রকোনায় বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রোববার সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অর্ধশতাধিক যুবক কেন্দুয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে এসে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন হইহুল্লোড় করে কার্যালয়ে ইট–পাটকেল ছুটতে থাকেন। এতে বেশ কয়েকটি জানালার কাচের গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় আতঙ্কে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. ওমর ফারুক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রোববার সকাল আটটার দিকে উপজেলায় ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরবরাহ হয় মাত্র ৭ মেগাওয়াট। কেন্দুয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে আটটি ফিডারের মধ্যে মাত্র দুটি চালু করা সম্ভব হয়েছিল। এ সময় খেলা দেখতে না পেরে উত্তেজিত লোকজন কার্যালয়ে এসে হামলা চালান। পরে অবশ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে টাঙ্গাইলের জামুর্কীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা। এতে সাবস্টেশনটির আওতাধীন দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন।

মধ্যরাতে ও ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ ঘাটতি, লোডশেডিং বেশি গ্রামে

অবরোধের কারণে রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় ১ ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল, নাটিয়াপাড়া, সেহড়াতৈল, ইসলামপুর ও পড়াইখালী এবং পাশের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা, জামুর্কী ও পাকুল্লা এলাকার গ্রাহকেরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কার্যকর সমাধান না পেয়ে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে উভয় পাশে যানজট তৈরি হয়। রোববার সকালে মির্জাপুরের জামুর্কী এলাকায়

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। তাঁদের আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষোভকারীরা। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে গত শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে চিঠি দেন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা নাগরপুরে ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহকের প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১০ মেগাওয়াট। আর দেলদুয়ারে ৯০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হচ্ছে ১৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অনেক কম সরবরাহের কারণে প্রতিদিন লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

দোহারে বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও

অতিরিক্ত বিল আদায় ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ঢাকার দোহারে পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন করেছেন গ্রাহকেরা। রোববার দুপুরে দোহারের নুরপুর এলাকায় এ কর্মসূচি করা হয়। এ সময় ঢাকা-দোহার সড়ক আটকে দেন আন্দোলনকারী। এতে যানজট তৈরি হলে পুলিশ গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

জামালপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং, ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ

কয়েক মাস দোহার ও নবাবগঞ্জে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো সমাধান করেনি। এ জন্য বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করেন গ্রাহকেরা। পরে গ্রাহকদের কয়েকজন প্রতিনিধি বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানালে তাঁরা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

দোহারে ভুতুড়ে বিল ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয় ঘেরাও করে মানবন্ধন করেছেন গ্রাহকেরা। রোববার দুপুরে উপজেলার নুরুপুর মাঠের পাশে

দোহার পল্লী বিদ্যুতের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. বাদল মিয়া বলেন, মিটারের রিডিং দেখে বিল করা হয়। অতিরিক্ত বিল হলে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, ৬৫ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা আছে ২৫ মেগাওয়াট। ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষকে লোডশেডিংমুক্ত রাখা যায়। কখনো কখনো এটা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশও হয়। তবে গরমের কারণে এখন চাহিদা বেশি। সেই তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে।

শেরপুরে হামলার হুমকির অভিযোগ

শেরপুরে বিশ্বকাপের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা চেয়ে রোববার পুলিশ সুপার ও থানার ওসিদের কাছে চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের পাঁচ উপজেলায় মোট গ্রাহক ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৪৪ জন। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ মেগাওয়াট। এ জন্য পালাক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বকাপ চলাকালে বিদ্যুৎ–বিভ্রাট হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

লোডশেডিং

শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, রোববার খেলা চলাকালে নকলা ও ঝিনাইগাতী বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু গ্রাহক হট্টগোল করেন। এ ছাড়া অনেকেই মুঠোফোনে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এ জন্য নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারসহ পাঁচ থানার ওসিদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘মূল সমস্যা বিদ্যুতের ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, খেলা চলাকালে যাতে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝালকাঠিতে মানববন্ধন

ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্রাহক হয়রানি ও অনিয়মের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন করেছেন গ্রাহকেরা। রোববার বেলা ১১টার দিকে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘মানবকল্যাণ সোসাইটি’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা, স্থানীয় দৈনিক দূরযাত্রা পত্রিকার সম্পাদক জিয়াউল হাসান, সরকারি খাসজমি রক্ষা আন্দোলন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব আলম খান, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত দাস হরি, ঝালকাঠি মানবকল্যাণ সোসাইটির সভাপতি উজ্জ্বল রহমান, কণা আক্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ঝালকাঠিতে লোডশেডিং, গ্রাহক হয়রানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়মের প্রতিবাদে গ্রাহকদের মানববন্ধন। রোববার বেলা ১১টার দিকে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝালকাঠিতে দিনে–রাতে লোডশেডিং চলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গ্রাহকদের হয়রানি, নানা প্রশাসনিক অনিয়ম ও ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, ঝালকাঠিতে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১১ মেগাওয়াট। তাঁরা কখনো ৬ মেগাওয়াট, কখনো ৭ মেগাওয়াট পাচ্ছেন। ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধা হলেও তাঁরা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

লোডশেডিং মানেই গ্রাম, স্থায়ী হচ্ছে বিদ্যুৎবৈষম্য

সিলেটে উপকেন্দ্রের সংযোগ বন্ধ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ঢুকে কর্মরত লাইনম্যানকে খোঁজাখুঁজি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উপকেন্দ্রের বাইরে থাকা ৩৩ কেভি এসিআর (অটোমেটিক সার্কিট রিক্লোজার) বন্ধ করে দিলে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে লাইনম্যান নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে বিষয়টি থানায় জানালে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাত ৩টা ২৪ মিনিটে অভিযোগকেন্দ্রের মুঠোফোন নম্বরে ফোন করে এক ব্যক্তি লোডশেডিংয়ের বিষয়ে কর্তব্যরত লাইনম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। লাইনম্যান বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর ফোন রেখে দেন। পরে রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে দুজন উপকেন্দ্রে ঢুকে ৩৩ কেভি এসিআর বন্ধ করে দেন।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক পংকজ চৌধুরী বলেন, দুষ্কৃতকারীরা উপকেন্দ্রে ঢুকে লাইনম্যানকে খোঁজাখুঁজি করছিল। লাইনম্যান কৌশলে অন্যত্র চলে যায়। পরে দুষ্কৃতকারীরা লাইন বন্ধ করে দেয়। এতে কিছুক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে গতকাল শ‌নিবার রাতে দুই দুষ্কৃ‌তকারী প্রবেশ করে

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়েছিল। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় গ্রাহকেরা বলেন, সম্প্রতি লোডশেডিং বেড়েছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মোখলেছুর রহমান খান বলেন, কোম্পানীগঞ্জে গ্রাহক প্রায় ৪৫ হাজার। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ার ধরা হয়। এ সময় গ্রাহকদের চাহিদা থাকে প্রায় ১১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট সরবরাহ থাকে। এ জন্য লোডশেডিং দিতে হয়। অন্য সময়ে ৯ মেগাওয়াটের মতো চাহিদা থাকে।

প্রচার গাড়ি আটকে দিলেন জনতা

রাজশাহীর বাগমারায় লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারের সময় পল্লী বিদ্যুতের একটি গাড়ি আটকে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার বিকেলে উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

পল্লী বিদ্যুতের প্রচার গাড়ি আটকে দিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার বিকেলে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বাজারে

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে একটি পিকআপ ভ্যানে মাইক লাগিয়ে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে প্রচার চালানো হয়। বিদ্যুতের চাহিদা কি পরিমাণ এবং কতটুকু পাওয়া যাচ্ছে সে বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়। পাশাপাশি লোকজনকে ধৈর্য ধারণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয় প্রচারে। এ ছাড়াও রাত নয়টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করার জন্য বলা হয় ওই প্রচারণা থেকে।

গাড়িটি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মচমইল বাজারের পেট্রলপাম্পের কাছে পৌঁছালে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁরা গাড়ি আটকে ক্ষোভের কথা জানান এবং গালাগাল করেন। এ সময় কিছু লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে পল্লী বিদ্যুতের গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভবানীগঞ্জ আঞ্চলিক দপ্তরের মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মচমইল এলাকায় প্রচার গাড়িটি বাধা প্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকেরা অতিষ্ঠ হয়ে এ রকম ঘটনা ঘটাতে পারে।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ফকরুল আলম জানান, দিনে ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫৮-৭০ মেগাওয়াট এবং রাতে ১৩১ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে থেকে ৭২-৮৩ মেগাওয়াট। এ জন্য লোডশেডিং হচ্ছে। এ এলাকায় ২০ মেগাওয়াট বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে সরকার দলীয় হুইপকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরম ও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার জন্য বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]

Read full story at source