আইবিএস কি পেটের সমস্যা, নাকি মনের

· Prothom Alo

হঠাৎ পেট মোচড় দেওয়া, বারবার টয়লেটে যেতে বাধ্য হওয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনো পাতলা পায়খানা—এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন আমাদের আশপাশের অনেক মানুষ। বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষার পরও যখন বড় কোনো শারীরিক রোগ ধরা পড়ে না, তখন শেষ পর্যন্ত বলা হয় আপনার ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আইবিএস কি শুধু পেটের রোগ, নাকি এর সঙ্গে মনেরও সম্পর্ক আছে?

কেন হয় আইবিএস

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, আমাদের মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যাকে বলা হয় গাট–ব্রেন অ্যাক্সিস।

Visit sport-tr.bet for more information.

জয়া আহসানের এই জামদানি শাড়ি দুজন তাঁতি বুনেছেন চার মাসে

মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা কিংবা দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা এই যোগাযোগে প্রভাব ফেলে। এর ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক চলন (পেরিস্ট্যালসিস) ও সংবেদনশীলতা পরিবর্তিত হয়, যা আইবিএসের উপসর্গকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই অনেকেই লক্ষ করেন, পরীক্ষার আগে, চাকরির সাক্ষাৎকার, বেড়াতে যাওয়া বা পারিবারিক মানসিক চাপের সময় পেটের অস্বস্তি বেড়ে যায়।

তাহলে আইবিএস কি মনের রোগ

একটি ভুল ধারণা ভাঙা জরুরি। আইবিএস মানে এই নয় যে রোগটি ‘শুধু মনের’ বা রোগীর কল্পনাপ্রসূত। এখানে মানসিক চাপ একটি ট্রিগারিং ফ্যাক্টর, তা ঠিক। তবে আদতে এটি একটি বাস্তব ও স্বীকৃত চিকিৎসাবিষয়ক সমস্যা। মানসিক চাপ এর তীব্রতা বাড়াতে পারে, আবার দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যাও উদ্বেগ ও হতাশার কারণ হতে পারে। অর্থাৎ পেট ও মন একে অপরকে প্রভাবিত করে।

কীভাবে ভালো থাকা সম্ভব

আইবিএস নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা ব্যায়াম ও যেসব খাবার উপসর্গ বাড়ায়, সেগুলো শনাক্ত করে এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে মেডিটেশন, শ্বাস–প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শও উপকারী হতে পারে।

ঠান্ডা পানীয় ও টকজাতীয় জুস খেলে কি দাঁতের ক্ষতি হয়

কখন সতর্ক হবেন

পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর, রক্তস্বল্পতা বা রাতে ঘুম ভেঙে পেটের ব্যথা হলে এটিকে আইবিএস ধরে নেওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সুস্থ থাকতে চাইলে শুধু পেটের নয়, মনেরও যত্ন নিতে হবে। কারণ, সুস্থ মন ও সুস্থ অন্ত্র একে অপরের পরিপূরক।

Read full story at source