৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে স্বর্ণ কেনার চেষ্টা, রিমান্ড শেষে কারাগারে রুবেল

· Prothom Alo

রাজধানীর বনানীতে প্রায় ৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে স্বর্ণালংকার কেনার চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. রুবেল আহম্মেদ ফকিরকে (৪৬) দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার দুই দিনের রিমান্ড শেষে রুবেলকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুম্মান খান।

Visit esporist.com for more information.

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন রুবেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তাঁর পলাতক সহযোগীর অবস্থান এবং জাল টাকার উৎস নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এড়িয়ে গেছেন। তবে মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে। তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে তাঁকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি রুবেল একজন পেশাদার জাল নোট চক্রের সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় জাল নোট তৈরি, প্রতারণা, মানি লন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটকে রাখা প্রয়োজন। জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন এবং মামলার তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৬ আগস্ট বিকেলে বনানী সুপারমার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘মনিমালা জুয়েলার্স’ নামের দোকানে ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন রুবেল ফকির ও তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি (৩৭)। তাঁরা ভাগনির বিয়ের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার কথা বলে কর্মচারীদের বিভিন্ন নকশার গয়না দেখাতে বলেন।

একপর্যায়ে তাঁরা ২০-২১ ভরি স্বর্ণালংকার পছন্দ করে তা বিল ও প্যাকেট করতে বলেন। স্বর্ণের পরিমাণ ও দাম বেশি হওয়ায় দোকানের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি মুঠোফোনে মালিককে জানান।

মালিকের আসতে দেরি হওয়ায় আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হলে রুবেল তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলের ওপর রাখেন। নোটগুলো পরীক্ষা করে কর্মচারীদের সন্দেহ হলে তাঁরা সেগুলো জাল নোট বলে নিশ্চিত হন।

বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই আসামি ট্রলি ব্যাগ ও টাকা ফেলে রেখে দোকান থেকে পালানোর চেষ্টা চালান। এ সময় দোকানের কর্মচারীদের চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এগিয়ে এসে রুবেলকে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাঁকে পিটুনি দেয়। তবে তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি কৌশলে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে বনানী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পুলিশ তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে মোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জাল নোট ও ট্রলি ব্যাগটি জব্দ করে।

এ ঘটনায় মনিমালা জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৭ আগস্ট আদালত রুবেলকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

Read full story at source