রাঙামাটি থেকে সাদাপোশাকে তুলে নেওয়া সাংবাদিকের জামিন হয়নি
· Prothom Alo

রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তাঁর জামিন শুনানি হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর পক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম।
Visit casino-promo.biz for more information.
নজরুল ইসলাম বলেন, সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে আদালতে তোলা হয়নি। তবে দুপুর ১২টার দিকে তাঁর জামিনের শুনানি শুরু হয়। আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেননি। এ ঘটনার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার। ওই দিন সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে আদালতে আনা হবে। তাঁর উপস্থিতিতে জামিনের শুনানি হবে।
গত মঙ্গলবার বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে সাদাপোশাকের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তাঁর সহকর্মীরা। রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। একই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরকেও তুলে নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা ডিএমপির শাহবাগ থানায় আলী আকবরের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবি অভিযান চালায়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, আলী আকবরকে আটকের সময় কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকেও তুলে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর গতকাল দুজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী।
সিসি ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে চার ব্যক্তি সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঘিরে ধরেছেন। সড়কের এক পাশে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়ানো ছিল। গাড়িটি চালু ছিল এবং নির্দেশক বাতি জ্বলছিল। কথা বলার এক পর্যায়ে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ওই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে গাড়িটি স্টেডিয়ামের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।
রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সৈকত রঞ্জন চৌধুরী জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কাজ আছে বলে সেখানে চলে যান। পরে আসবেন বলে জানান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও তিনি না আসায় তাঁরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে যান। সেখানে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মোটরসাইকেল পড়ে থাকলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সাদাপোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে তুলে নিয়ে গেছেন।
মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
এদিকে সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা সাদাপোশাকধারীদের তুলে নেওয়ার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আজ বেলা ১১টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা প্রমুখ।