এসএসসি পরীক্ষায় ১৯ শিক্ষার্থীর শতভাগ পাসের সাফল্য
· Prothom Alo

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দড়ি হাইরামারা গ্রামে অবস্থিত সাদত স্মৃতি পল্লী প্রকল্প। প্রথম আলো ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত এই প্রকল্পে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা, বয়স্কভাতা, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানও শিশুবিকাশ কেন্দ্র পরিচালনা ও আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি মেধাবৃত্তি কার্যক্রমের ১৯ জন শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ সাফল্যে আনন্দিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলকে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন আয়োজকেরা।
Visit freshyourfeel.org for more information.
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি মেধাবৃত্তির আওতায় থাকা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ জন শিক্ষার্থী মনিপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবং ১০ জন ইউনুস মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। মনিপুরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ শিক্ষার্থীর সবাই কৃতকার্য হয়েছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ শাকিরুল ইসলাম জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। বাকি আটনের সাতজন এ গ্রেড ও একজন বি গ্রেড পেয়ে পাস করেছে।
আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি মেধাবৃত্তি পাওয়া দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পাস করা ১৯ জনের একাংশ।অন্যদিকে, ইউনুস মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ শিক্ষার্থীরও সবাই কৃতকার্য হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন জিপিএ-৫, সাতজন এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
দুই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া মোট ১৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজন এ প্লাস, ১৪ জন এ গ্রেড এবং একজন বি গ্রেড অর্জন করেছে। এই শিক্ষার্থীরা নবম ও দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি মেধাবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছে। নিয়মিত এই আর্থিক সহায়তা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি মেধাবৃত্তি কার্যক্রমটি ২০১৯ সালে চালু করা হয়। কার্যক্রম শুরুর সময় শুধুমাত্র নবম ও দশম শ্রেণিতে স্থানীয় ২টি বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত ৮০ জন শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো বৃত্তির পরিধি বাড়িয়ে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে দুটি স্কুলের প্রতি শ্রেণি থেকে ১০ জন করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। ফলে সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম—এই চার শ্রেণির ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী এই শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে থাকে। একজন শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেণিতে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হলে ধারাবাহিকভাবে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট চার বছর নিয়মিত এই শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে থাকে।
আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি মেধাবৃত্তি পেয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৩ নারী শিক্ষার্থী।আম্বিয়া খাতুন স্মৃতি মেধাবৃত্তির উদ্দেশ্য হলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং অর্থের অভাবে যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সহায়তা করা। নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখা এবং ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করাও এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।
শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি পরিচালনা করে প্রথম আলো ট্রাস্ট।