প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ (বাংলা)। সুখু ও দুখুর স্বভাব ছিল বিপরীত ধরনের

· Prothom Alo

বাংলা: বিস্তৃত প্রশ্ন

গল্প ∎ সুখু ও দুখু

Visit sweetbonanza.qpon for more information.

প্রশ্ন: সুখুর করুণ পরিণতির পেছনে তার নিজের দোষগুলো কী ছিল?
উত্তর:
সুখুর পরাজয়ের মূল কারণ ছিল তার চরম অহংকার ও সীমাহীন লোভ। সে বুড়ির বাড়িতে গিয়েছিল কেবল সম্পদের আশায়। পথে যারা সাহায্য চেয়েছিল, তাদের সে অবজ্ঞা করেছে। বুড়ির সঙ্গে কথা বলার সময় সে অত্যন্ত উদ্ধত ও খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছে। সে ভেবেছিল বেশি ডুব দিলে বেশি গয়না পাবে, কিন্তু তার ফল হয় উল্টো। লোভের বশবর্তী হয়ে সে দামি খাবার ও বড় পেটরা নিয়েছিল, যা তাকে লজ্জায় ফেলে দেয়। তার নিজের খারাপ ব্যবহার এবং অন্যের প্রতি দয়াহীনতাই তার জীবনে দুঃখ ডেকে আনে। বড়দের অবমাননা ও স্বার্থপরতা মানুষকে যে বিপদে ফেলে, সুখুর পরিণতি তার বড় উদাহরণ।

প্রশ্ন: সুখু ও দুখুর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো আলোচনা করো।
উত্তর:
সুখু ও দুখু দুই বোন হলেও তাদের স্বভাব ছিল একে অপরের বিপরীত। দুখু ছিল কঠোর পরিশ্রমী, যে সারা দিন ঘরের কাজ করত এবং বাবার সুতা কাটত। অন্যদিকে সুখু ছিল অলস, সে সারা দিন শুধু বসে বসে খেত। দুখুর মন ছিল দয়ায় ভরা, কিন্তু সুখু ছিল অত্যন্ত স্বার্থপর ও অহংকারী। পথে ঘোড়া বা কলাগাছকে সে কোনো সাহায্য করেনি। আবার দুখুর মনে কোনো লোভ ছিল না, কিন্তু সুখু ছিল অতিশয় লোভী। দুখু বড়দের সম্মান জানাত, আর সুখু বুড়ির সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেছিল। এই চারিত্রিক পার্থক্যের কারণেই দুখু পুরস্কৃত হয়েছিল এবং সুখু শাস্তি পেয়েছিল।

প্রশ্ন: দুখুর চরিত্র থেকে আমরা কী কী মানবিক গুণাবলি শিখতে পারি?

উত্তর: দুখু গল্পের একটি আদর্শ চরিত্র। তার চরিত্রের প্রধান গুণ হলো দয়া ও পরোপকার। পথে একটি অসহায় কলাগাছ ও ক্ষুধার্থ ঘোড়াকে দেখে সে নিজের বিপদের কথা ভুলে তাদের সাহায্য করেছে। তার মধ্যে কোনো লোভ ছিল না, যা বুড়ির বাড়িতে তার আচরণে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সে দামি কাপড় বা খাবার না নিয়ে সাধারণ জিনিস পছন্দ করেছে। এ ছাড়া বড়দের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও বিনয় আমাদের মুগ্ধ করে। দুখুর এই সরলতা ও সততার কারণেই সে পুরস্কার পেয়েছে। আমাদের উচিত দুখুর মতো নিরহংকার হওয়া এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসা।

প্রশ্ন: বুড়ির বাড়িতে গিয়ে দুখু কীভাবে নিজের সততার পরিচয় দিল?
উত্তর:
বুড়ির বাড়িতে গিয়ে দুখু তার নম্রতা ও নির্লোভ মানসিকতার পরিচয় দেয়। বুড়ি তাকে পুকুরে ডুব দিয়ে আসতে বললে সে ডুব দেয় এবং সোনার গয়নায় ভরে ওঠে। কিন্তু এরপর বুড়ি যখন তাকে ঘর থেকে কাপড় ও খাবার নিতে বলেন, তখন দুখু দামি কিছু না নিয়ে সবচেয়ে সাধারণ কাপড় ও পান্তা ভাত পছন্দ করে। এমনকি পেটরা নেওয়ার সময়ও সে সবচেয়ে ছোট এবং তার হারিয়ে যাওয়া তুলার সমান পেটরাটি নেয়। তার এই ‘অল্পে তুষ্টি’র ভাবটিই প্রমাণ করে যে সে কতটা সৎ। দুখুর এই চারিত্রিক দৃঢ়তাই তাকে গল্পের শেষে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছে।

প্রশ্ন: দুখু কীভাবে প্রকৃতি ও পশুপাখির প্রতি তার 

মমত্ববোধের পরিচয় দিয়েছিল? বর্ণনা করো।
উত্তর:
দুখু ছিল অত্যন্ত দয়ালু ও পরোপকারী একটি মেয়ে। যখন দমকা বাতাস তার তুলা উড়িয়ে নিয়ে গেল, তখন সে বাতাসের পিছু পিছু যাওয়ার সময় পথে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন প্রাণিকুল ও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়েছিল। প্রথমে একটি লতাপাতায় ঘেরা কলাগাছ তাকে সাহায্য চাইল। দুখু নিজের বিপদের কথা ভুলে গিয়ে পরম মমতায় কলাগাছের গায়ের লতাপাতা সরিয়ে তাকে মুক্ত করল। এরপর একটি তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত ঘোড়া তাকে কচি ঘাস দিতে অনুরোধ করলে, দুখু দাঁড়িয়ে ঘাস কেটে তাকে খাওয়াল। সে চাইলে নিজের হারানো তুলার চিন্তায় এদের এড়িয়ে যেতে পারত, কিন্তু তার অন্তরে ছিল গভীর মায়া। এই সেবায় সে প্রমাণ করেছে যে, মানুষ হিসেবে প্রকৃতি ও পশুপাখির প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। দুখুর এই মমত্ববোধই তাকে পরবর্তী সময়ে পুরস্কৃত হতে সাহায্য করেছে। মূলত তার এই দয়া ও সেবা ছিল কোনো প্রতিদানের আশা ছাড়াই এক অকৃত্রিম মানবিক আচরণ।

প্রশ্ন: বুড়ির বাড়িতে দুখু ও সুখুর আচরণের মধ্যে যে বৈপরীত্য দেখা যায়, তা বর্ণনা করো।
উত্তর:
বুড়ির বাড়িতে দুখু ও সুখুর আচরণের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। দুখু বুড়ির কাছে গিয়ে নম্র ও মধুর কণ্ঠে তার কুশল জিজ্ঞাসা করেছিল এবং বুড়িকে সম্মান দিয়েছিল। অন্যদিকে সুখু ছিল চরম উদ্ধত; সে বুড়িকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে তার জিনিস দ্রুত ফেরত চেয়েছিল। বুড়ি যখন তাদের পুকুরে ডুব দিয়ে আসতে ও খাবার খেতে বললেন, তখন দুখু সাধারণ কাপড় ও সাধারণ গামছা বেছে নিল এবং সামান্য পান্তা খেয়ে সন্তুষ্ট থাকল। কিন্তু লোভী সুখু সবচেয়ে দামি কাপড় ও গামছা নিল এবং গপগপ করে দামি খাবারগুলো খেয়ে পেট ঢোল করল। দুখু বুড়ির নির্দেশ পালন করেছিল ধৈর্য ও শ্রদ্ধার সঙ্গে, কিন্তু সুখু ছিল অধৈর্য ও অসম্মানজনক। দুখুর চরিত্রে ছিল বিনয় ও তুষ্টি, আর সুখুর চরিত্রে ছিল চরম লোভ ও অহংকার। এই দুই বোনের আচরণের ভিন্নতাই তাদের পরিণতির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

Read full story at source